কাজী আবুল মনসুর#
ভারতের রাজনীতিতে নতুন এক প্রতীক এখন তুমুল আলোচনায় ‘ককরোচ’। সাধারণভাবে যে প্রাণীকে নোংরা পরিবেশের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, সেটিকেই হাজার হাজার ভারতীয় তরুণ আজ প্রতিবাদের প্রতীক বানিয়েছেন। আদালতের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ নিয়েছে বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের এক নতুন আন্দোলনে। ‘Cockroach Janta Party (CJP)’ নামের এই উদ্যোগ এখন ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যতম আলোচিত বিষয়।
মে ২০২৬, বিতর্কিত আদালত পর্যবেক্ষণ: ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে সরকারি চাকরির নিয়োগ, বেকারত্ব ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, চাকরিপ্রার্থী ও বেকার তরুণদের বোঝাতে ‘ককরোচ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। অভিযোগ ওঠে যে তিনি কিছু বেকার যুবককে “ককরোচ” (তেলাপোকা) বলে উল্লেখ করেছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই খবর তরুনদের মনে তৈরি করে তীব্র ক্ষোভ। ‘CJP’-র ধারণা ও ডিজিটাল বিদ্রোহ, আর এই অপমানই হয়ে যায় প্রতিবাদের অস্ত্র। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দিপ (Abhijeet Dipke) সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মকভাবে “Cockroach Janta Party” নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। তার বার্তা ছিল স্পষ্ট, “ক্ষমতাসীনরা যদি আমাদের ‘ককরোচ’ ভাবে, তবে এই ককরোচ পরিচয় নিয়েই আমরা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়াব।” হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড: দেখতে দেখতে ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে #MainBhiCockroach (আমিও ককরোচ) এবং #CockroachJantaParty।
প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হলেও, দিনের পর দিন জমে থাকা তরুণদের ক্ষোভ এটিকে রাজপথে নিয়ে আসে প্রতীকের শক্তিতে রূপান্তর করে। অপমানের ‘ককরোচ’ শব্দটি রাতারাতি বদলে হয়ে ওঠে প্রতিবাদের আত্মপরিচয়। ক্ষোভের বহুমাত্রিক রূপ, চাকরি প্রত্যাশীদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম সংকট এই প্রতীকের নিচে এসে একত্র হয়। রাজপথে ব্যানার ও বিক্ষোভ, দিল্লি থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের হাতে শোভা পেতে থাকে ‘Cockroach Janta Party’-এর পোস্টার ও ব্যানার। নিজেদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ’ হিসেবে উপস্থাপন করেই তারা সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন।
“রুটি-রুজির লড়াই যখন অধিকারের আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন সাংবিধানিক নীতিগুলোই হয়ে ওঠে আস্থার শেষ আশ্রয়।” ভারতে সম্প্রতি তরুণদের যে ব্যঙ্গাত্মক ও ক্ষোভের ‘ককরোচ’ (Cockroach) আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে, তা আপাতদৃষ্টিতে বেকারত্ব, পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সোচ্চার প্রতিবাদ। কিন্তু আন্দোলনের গতিধারা এবং জনমানসের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,এর গভীরে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করছে আরও এক বড় সাংবিধানিক বিতর্ক, আর তা হলো ভারতের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সার্বিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার ভবিষ্যৎ। ২০২৬ সালের বিতর্কিত আদালত পর্যবেক্ষণ থেকে জন্ম নেওয়া ‘Cockroach Janta Party (CJP)’ কেবল সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের #MainBhiCockroach হ্যাশট্যাগে আটকে থাকেনি। রাজপথে নামা হাজার হাজার তরুণ যখন নিজেদের ‘ককরোচ’ পরিচয়ে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করছেন, তখন প্রশ্ন উঠছে: রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের পরিচয় কী? তরুণদের কি কেবল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বা ধর্মীয় মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হবে, নাকি সংবিধান অনুযায়ী সবার সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে?
ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ হলো ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ (Secularism), যার মূল কথা হলো ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের চোখে সমান এবং রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ধর্মকে প্রাধান্য না দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে। কিন্তু যখন বেকারত্ব বৃদ্ধি পায় এবং তরুণদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটে, তখন এই সাংবিধানিক নীতিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরেই ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মীয় মেরুকরণের এক তীব্র টানাপোড়েন বিদ্যমান। বিশ্লেষকদের মতে, মেরুকরণের কৌশল: অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য আড়াল করতে অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মীয় মেরুকরণের ওপর নির্ভর করে। ‘ককরোচ’ আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলো তরুণ সমাজকে একটি পতাকার নিচে নিয়ে আসছে, যেখানে জাত-পাত বা ধর্মের পরিচয়ের চেয়ে ‘বেকার ও বঞ্চিত তরুণ’ পরিচয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে।
ধর্মনিরপেক্ষতার বাস্তব রূপায়ন এখন ককরোচ আন্দোলন। যখন একজন হিন্দু, মুসলিম, শিখ বা খ্রিস্টান তরুণ বেকারত্বের একই যন্ত্রণায় রাস্তায় একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন ভারতের সংবিধানে বর্ণিত ‘সর্বধর্ম সমভাব’ বা ধর্মনিরপেক্ষতার মূল চেতনাটিই বাস্তব রূপ পায়। বাস্তবে ধর্মনিরপেক্ষতা কোনো বিচ্ছিন নীতি নয়; এটি একটি দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।যদি কোনো দেশের ২০ কোটিরও বেশি নাগরিকের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে মনে করে যে তারা বৈষম্যের শিকার বা নিরাপত্তাহীন, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। একইভাবে, যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ মনে করে তাদের উদ্বেগও উপেক্ষিত হচ্ছে, সেটিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্থিতিশীল গণতন্ত্রের জন্য রাষ্ট্রের উচিত সব নাগরিকের মধ্যে সমান আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।
ভারতের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা যেমন রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার কথা বলে, তেমনি অনুচ্ছেদ ১৬ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ‘সমান সুযোগে’র নিশ্চয়তা দেয়। চাকরির বাজারে অনিয়ম বা প্রশ্নপত্র ফাঁস বাস্তবে সেই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিকেই ভঙ্গ করে। তরুণদের এই আন্দোলন পরোক্ষভাবে স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কেবল ধর্মীয় আবেগ দিয়ে পেটের ক্ষুধা বা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মেটানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে যদি প্রকৃত অর্থেই ধর্মনিরপেক্ষ ও কল্যাণমুখী হতে হয়, তবে প্রতিটি তরুণের মৌলিক অধিকার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের রাজনীতিতে ‘ককরোচ’ আন্দোলন হয়তো আদালতের একটি মন্তব্য কিংবা অনলাইন মিম হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু এটি এখন এক বিশাল সামাজিক দর্পণে রূপ নিয়েছে। একদিকে জমে থাকা বেকারত্বের ক্ষোভ, অন্যদিকে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও নিরপেক্ষ আচরণের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি,এই দুইয়ের মিলনই আজকের আন্দোলনের মূল শক্তি। রাজনীতির মাঠে ধর্মীয় বিতর্ক যতই থাকুক না কেন, রাজপথে তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ মনে করিয়ে দিচ্ছে,গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা ধর্মীয় বিভাজনে নয়, বরং দেশের প্রতিটি তরুণের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায়।
‘ককরোচ আন্দোলন’ বা ‘Cockroach Janta Party (CJP)’ কেন্দ্রিক ক্ষোভ কেবল বেকারত্ব বা ধর্মনিরপেক্ষতায় থেমে নেই। রাজপথ ও সামাজিক মাধ্যমে এই আন্দোলন যত ডালপালা মেলছে, দেশের রাজনীতি ও সমাজে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে আসছে। পাশাপাশি, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক ইনফ্লুয়েন্সারদের সমর্থন আন্দোলনে নতুন এক মাত্রা এনে দিয়েছে। সম্প্রতি ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট ও বেশ কিছু সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ এখন সরকারের ডিজিটাল সেন্সরশিপ ও বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের দিকে ঘুরছে। তরুণদের দাবি,একটি ব্যঙ্গাত্মক মিম আন্দোলনকে বন্ধ করতে ওয়েবসাইট ডাউন করা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল।
শিক্ষিত তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ না দেওয়া, পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া এবং বার বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে দেশে মেধা অপচয় হচ্ছে। ‘ককরোচ’ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা বার্তা দিচ্ছে,ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে পুরো এক প্রজন্ম দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে। শুধু চাকরির নিয়োগ নয়, বরং নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) এবং আইনি ব্যবস্থার মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার জোর দাবি উঠছে। প্রথাগত দলীয় পতাকার বাইরে গিয়ে জেন-জি তরুণদের নিজস্ব চিহ্নে (যেমন: তেলাপোকা) ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রমাণ করে.তরুণ সমাজ প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ভরসা হারাচ্ছে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাইছে।
যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ইন্টারনেটের এক কোনায় ব্যঙ্গাত্মক মিম হিসেবে, দিল্লির ৪০ ডিগ্রি গরমের মধ্যে যন্তরমন্তরে সেই তেলাপোকাদের ভিড় আজ আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণ তরুণদের এই অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহকে ঘিরে এখন সরগরম ভারতের রাজনীতি। ক্ষমতাসীন দলকে চাপে ফেলতে আন্দোলনে সমর্থনের ঢল নেমেছে একাধিক প্রভাবশালী রাজনীতিবীদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের থেকে। আন্দোলন তীব্র হতেই বিরোধী দলগুলোর নজর কাড়ে এই তরুণদের জমায়েত।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ‘ককরোচ’ আন্দোলনে সংহতি ও যোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে মোদি সরকারের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতির কড়া সমালোচনা করেন। রাহুল গান্ধী সহ একাধিক বিরোধী নেতা বেকারত্ব ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে তরুণদের এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনকে সংহতি জানান। তাঁদের মতে, “তরুণদের কণ্ঠরোধ করতে না পেরে যখন রাষ্ট্র তাঁদের অপমান করে, তখন ককরোচ-ই হয়ে ওঠে প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় প্রতীক।”
আন্দোলনের রূপকার অভিজিৎ দিপকের মূল ধারণাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন ধ্রুব রাঠী (Dhruv Rathee)-র মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সাররা। ভিডিও, শর্টস এবং মিমের বন্যায় কোটি কোটি তরুণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে আন্দোলনের বার্তা। আন্দোলনের প্রভাব এতটাই প্রবল যে, সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে #CockroachJantaParty হ্যাশট্যাগ। পাকিস্তানের তরুণরাও তাঁদের নিজেদের অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্বের সাথে মিল খুঁজে পেয়ে এই আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন, যা এটিকে একটি আঞ্চলিক তরুণ প্ল্যাটফর্মে রূপ দিচ্ছে।
ওয়েবসাইট ব্লক করা কিংবা পুলিশি বাধার পরও দমে যায়নি এই ‘ককরোচ’ জোট। রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ জনগণ,সবাই এখন অনুধাবন করছেন যে, রাষ্ট্র যাঁদের ‘ক্ষতিকর বা অপ্রয়োজনীয়’ ভেবে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল, তারাই আজ সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। যদি একটি গণতান্ত্রিক দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের একটি বড় অংশ নিজেকে বঞ্চিত বা অনিরাপদ মনে করতে শুরু করে, তাহলে সেই অসন্তোষ একসময় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে। ইতিহাসে বিভিন্ন দেশে এমন উদাহরণ রয়েছে।##

